সনাতন ধর্মে রাক্ষসীবেলা বলতে মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়কে বোঝানো হয়, যা সাধারণত সন্ধ্যা বা গোধূলির সময়কাল। তিথি-নক্ষত্রের হিসাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মানা হয়।
১. রাক্ষসীবেলা কী?
রাক্ষসীবেলা: সাধারণত দিন ও রাতের সংযোগকারী সময়, অর্থাৎ সূর্যাস্তের ঠিক আগে থেকে সূর্যাস্তের পরে কিছু সময় পর্যন্ত। এই সময়কে গোধূলিলগ্ন বা সন্ধ্যাবেলাও বলা হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই সন্ধিক্ষণটিকে শুভ ও অশুভ শক্তির মিলনকাল হিসাবে দেখা হয়। মনে করা হয়, এই সময়ে অশুভ শক্তি বা রাক্ষসদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। তাই এই সময়ে কিছু শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ।
বিশেষত, দিনকে ৮ ভাগে ভাগ করে দিনের শেষ ভাগকেও রাক্ষসী বেলা হিসেবে ধরা হয়।
২. রাক্ষসীবেলার সময় কীভাবে নির্ধারণ হয়?
রাক্ষসীবেলার সঠিক সময় দৈনিক সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।
মোটামুটি সময়কাল: সাধারণত সূর্যাস্তের প্রায় ২৪ মিনিট আগে থেকে সূর্যাস্তের প্রায় ২৪ মিনিট পর পর্যন্ত সময়কে গোধূলি বা রাক্ষসীবেলা হিসাবে ধরা হয়। তবে স্থানীয় সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের ভিত্তিতে এর সামান্য তারতম্য হতে পারে।
তিথি ও নক্ষত্রের হিসাব অনুযায়ী পঞ্জিকাতে নির্দিষ্ট দিনের শুভ-অশুভ সময় উল্লেখ করা থাকে, যেখানে এই সময়টি 'রাক্ষসী বেলা', 'কালবেলা', 'কালরাত্রি' বা 'অমৃত যোগ'-এর মতো ভাগে বিভক্ত থাকে।
৩. রাক্ষসীবেলায় কী কী কর্ম করা নিষিদ্ধ?
রাক্ষসীবেলা অশুভ বা অমঙ্গলজনক বলে বিবেচিত হয়, তাই এই সময়ে নিম্নলিখিত কর্মগুলি করতে সাধারণত বারণ করা হয়:
নতুন কোনো শুভ কাজ শুরু: বাড়ি তৈরি বা গৃহ প্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু, কোনো শুভ যাত্রা (যেমন তীর্থযাত্রা) বা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করা এই সময়ে অশুভ বলে মনে করা হয়।
চুল কাটা বা নখ কাটা: এই সময়ে চুল বা নখ কাটতে বারণ করা হয়।
ঘুমোনো বা শুয়ে থাকা: বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলা বা গোধূলিলগ্নে ঘুমানো বা অলসভাবে শুয়ে থাকা শাস্ত্রে বারণ করা হয়েছে, কারণ এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং অলসতা বৃদ্ধি করে বলে মনে করা হয়।
ভ্রমণ: অতি প্রয়োজনীয় না হলে দূরপাল্লার ভ্রমণ বা যাত্রা শুরু করা উচিত নয়।
অর্থ লেনদেন: অর্থ ধার দেওয়া বা নেওয়া, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা হিসাব করা এই সময়ে শুভ নয় বলে মনে করা হয়।
তবে, এই সময়ে কিছু কাজ করাকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়:
সন্ধ্যা দেওয়া: এই সময়ে দেব-দেবীর সামনে প্রদীপ বা ধূপ জ্বালিয়ে সন্ধ্যা আরতি বা সন্ধ্যা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শুভ কাজ।
ধ্যান ও প্রার্থনা: ঈশ্বরের নাম জপ করা, ধ্যান করা বা পূজা-অর্চনা করা এই সন্ধিক্ষণে অত্যন্ত পুণ্যের কাজ।
তুলসী মঞ্চে প্রদীপ জ্বালানো: বাড়িতে এই সময়টিতে তুলসী মঞ্চে প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়।
