Thursday, October 28, 2021

আদিত্য চক্রবর্তীর অন্নপ্রাশন।



অন্নপ্রাশনের খন্ডিত অংশ। 

অন্নপ্রাশন 


নবজত বালক বালিকার অশৌচ বিধি।

 নবজাত বালক বালিকার অশৌচ বিধি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। 


Tuesday, October 26, 2021

নবগৃহ প্রবেশের দিন নির্ধারণ করার নিয়ম

 নবগৃহ প্রবেশের দিন নির্ধারণ করার নিয়ম। 


আমাদের ধর্মবোধ বিশ্বাস ও সংস্কৃতির চেতনা সনাতন

 আমরা বাঙালি।আমাদের ধর্মবোধ বিশ্বাস ও সংস্কৃতির চেতনা সনাতন ; শাশ্বত ও চিরন্তন। যে জাতির জীবনী শক্তি আছে তার আত্মপ্রত্যয় শক্ত বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।তারা নিজের সম্বন্ধে কোনও অপ্রিয় সত্য শুনতে যেমন ভয় পায় না, নিজের দোষ ধরতে সঙ্কোচ বোধ করে না তেমনি অন্যের অন্যায়কেও প্রশ্রয় দেয় না। ভাবী বিপদের আশঙ্কায় বিচলিতও হয় না।প্রতিকারের  হিসাব করতে ভয় পায় না।দুর্বল জাতি নিজের শক্তিতে এতো অবিশ্বাসী হয় যে,বিপদের কথাতেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠে।মৃত্যুর আগেই তাদের মৃত্যু ঘটে।মরার আগে মরে যাওয়া বাঙালির শোভা পায় না।বাঙালি সত্যপ্রিয় শান্তিকামী জাতি।  গোয়ার্তুমি করে বিভৎস অত্যাচার, ধর্ষণ, পরধন লুণ্ঠন ও ঠুনকো কারনে নরহত্যা তার শোভা পায় না।সে সহসা অশান্তি কলহ- ঝগড়ায় নিজেকে জড়ায় না।তবে নিজ বাস ভূমে পরবাসী করবার অন্যায় পদক্ষেপকে তুড়ি মেরে সঅধিকার প্রতিষ্ঠা করে।হাজার বছরের ইতিহাস তার প্রমাণ দেয়।এর জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই।বাঙালী ঐক্যবদ্ধ হও।তবেই গৌরব অক্ষুণ্ণ থাকবে।

Saturday, October 23, 2021

কন্যাসন্তানের জননী বিধবার প্রয়াত স্বামীর মুখাগ্নি ও শ্রাদ্ধ করার অগ্রাধিকার প্রসঙ্গেঃ

 কন্যাসন্তানের জননী বিধবার প্রয়াত স্বামীর মুখাগ্নি ও শ্রাদ্ধ করার অগ্রাধিকার প্রসঙ্গেঃ

 কোনো লোক তার স্ত্রী ও কন্যা সন্তান রেখে মারা গেলে  মুখাগ্নি ও শ্রাদ্ধ ক্রিয়ার অধিকারী নিয়ে সনাতনীদের মাঝে মতানৈক্য দেখা দেয় ।কেউ নিজের মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে ,আবার কেউ নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন বিধান দিতে চেষ্টা করেন এবং কেউ বিধান নিতে চেষ্টা করেন যা স্মৃতিশাস্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক ।

কেউ কেউ বলেন, ভ্রাতুষ্পুত্র বা ভাতিজা জীবিত থাকলে সে শ্রাদ্ধ করার অধিকারী । কারণ ভাতিজা  পুত্র তুল্য।এমনকি ভাতিজা ধরাও নিতে পারে।তাহলে মাথা মুণ্ডণ ও করতে পারে।

আমার শাস্ত্রীয় জ্ঞানমতে এরূপ ক্ষেত্রে উনার বিধবা স্ত্রী মুখাগ্নি ও  শ্রাদ্ধের অগ্রাধিকারী ।পতি হলেন স্ত্রীর মহাগুরু ।মহাগুরু নিপাতে স্ত্রীকে এক বছর কালাশৌচ পালন করতে হয়।

শাস্ত্রীয় ব্যবস্থায় বলা হয়েছে, পুরুষের ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে অধিকারী হলো, জ্যেষ্ঠপুত্র, তার অভাবে পরবর্তী কনিষ্ঠ পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, অপুত্রা পত্নী,পুত্রবতী পত্নী, অদত্তা কন্যা, বাগদত্তা কন্যা, দত্তা কন্যা, দৌহিত্র, কনিষ্ঠ সহোদর, জ্যেষ্ঠ সহোদর, কনিষ্ঠ বৈমাত্রেয়, কনিষ্ঠ সহোদর পুত্র, জ্যেষ্ঠ সহোদর পুত্র ( ভাতিজা)। তাহলে দেখা যায়, ভাতিজা অনেক পরে।কিন্তু কেউ কেউ নিজ স্বার্থে অথবা নিজের ইগো প্রতিষ্ঠিত করতে ভাতিজাকে ছেলের জায়গায় এনে বিধান দেন।এমনকি ভাতিজাকে ধরা লওয়ান,মাথা মুণ্ডণ করে শ্রাদ্ধাদি ক্রিয়া করান।কেউ কেউ মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি পাবার লোভে এরূপ করাতে পুরোহিতকে গাইড করার চেষ্টা করেন ।

আমি শাস্ত্রজ্ঞ নহি ।তবে শাস্ত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করি এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজে জানলেও পণ্ডিত বা শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হই এবং শেয়ার করে শাস্ত্র ও বিবেকের সাথে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেই।

শাস্ত্র নিয়ে লেখালেখি করতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছি ।কারণ কিছু কিছু আত্মজ্ঞানী বলেন এগুলো লিখার কোনো অর্থ নেই ।অথচ কেউ কেউ বিভিন্ন ফেইসবুক বন্ধুর লিখা সংগ্রহ করে অন্য জায়গায় গিয়ে বাহাদুরি করেন।তাই আমি শাস্ত্রীয় আলোচনায় নিজেকে বোকাই ভাবি।বোকা না হলে কি নিজের খেয়ে মানুষকে জ্ঞান দিতে যাই।বলা হয় বিদ্যা দান করলে বিদ্যা বাড়ে ।এভাবে জ্ঞান দান করলে জ্ঞান বাড়ে ।কিন্তু শাস্ত্রে আবার অপাত্রে জ্ঞান দান নিষেধ করা হয়েছে ।ফেইসবুকে পাত্র বা অপাত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়।আমার একটি ছেলে সন্তান ও নেই যে আমার লিখা পাঠ করে কিছু শিখতে পারবে ।অবশ্য ভাতিজা আছে ।সেও ছোট ।দুটো মেয়ে আছে ।হয়তো কিছু শাস্ত্রীয় বিষয় শেখার আছে ।কিন্তু স্মৃতি শাস্ত্রের বিষয় তো তাদের জানার প্রয়োজন নেই ।যাহোক, মনের দুঃখে এ কথাগুলো বললাম কিছু কুলাঙ্গারের জন্য ।অথচ এসব কুলাঙ্গার যুক্তিবাদী হলেও অধমের প্রয়োজন যে পরতে পারে তা ভাবে না।আমি মনে করি সবার প্রয়োজন আছে ।কিন্তু অনেক সময় মনটা নষ্ট হয়ে যায় ।

যাহোক, এ সঙ্কটময় মুহূর্তে আমি আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনেই স্মৃতি শাস্ত্রের বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম ।আমার এক পিসতুতো ভাই আজ বিকালে দেহত্যাগ করেছেন ।উনি এক বিধবা স্ত্রী ও তিনটি কন্যা সন্তান ( বিবাহিতা) রেখে দেহত্যাগ করেন ( ওঁ দিব্যান্ লোকান স গচ্ছতু)।"আমি আমার আলোচনা মোতাবেক বিধান দিয়েছি ।তবু অধিকতর নিশ্চিত হবার জন্য আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ।সেটা আমার নিজের ব্যাপার।তাই শাস্ত্রজ্ঞ বন্ধুদের মতামত পেলে আমার পূর্ণ সন্তুষ্টি আসবে ।আমার দাদার বিদেহী আত্মার পরম শান্তি কামনা করার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করা হলো ।

আসলে আমার যেকোনো পোস্ট করার পেছনে একটা মহৎ উদ্দেশ্য থাকে ।আজ শাস্ত্রবাক্য ভুল ব্যাখ্যার কারণেই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে ।আর এগুলো করছে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে অথবা শাস্ত্রবাক্যে পরিপক্ব জ্ঞানের অভাবে।জ্ঞানের অভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিলে আমার কিছু নেই ।কিন্তু জেনে শুনে ভুল ব্যাখ্যা দিলে তার বিচারের ভার পরমেশ্বরের উপর এবং যুক্তিবাদীদের বিচারের ভার প্রকৃতির উপর দিলাম ।

Saturday, June 5, 2021

সনাতন ধর্মে বৈষ্ণব ও অবৈষ্ণব ধর্মে বিভাজনের অবসান প্রয়োজন

 সনাতন ধর্ম বৈষ্ণব ও অবৈষ্ণব ধর্মে বিভাজনের অবসান প্রয়োজন ( ৪র্থ পর্ব):


কিছু কৃষ্ণভক্ত দেবতা পূজার বিরোধীতা করেন ।তারা বলেন যে,যাদের জ্ঞান নেই তারা দেবতার পূজা করেন।তারা গ্রামে গঞ্জে পর্যন্ত এগুলোর প্রচার করেন এবং কেউ কেউ বলেন যে,এগুলো ব্রাহ্মণদের ব্যবসা ।অবশ্য কিছু সংখ্যক কৃষ্ণভক্ত অন্যভাবে বলেন ।তারা বলেন, গাছের গোড়ায় জল দিলে যেমন শাখা প্রশাখা পুষ্ট হয়, তেমনি শ্রীকৃষ্ণের সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমেই দেব দেবীকে সন্তুষ্ট করা যায় ।ভগদ্ভক্তগণ শ্রদ্ধা সহকারে বিষ্ণুতত্ত্ব বা বিগ্রহের আরাধনা করেন ।তাতেই অন্যান্য দেবদেবী সন্তুষ্ট হন।তাদের একথার মাঝে কিছুটা দেব ভক্তির পরিচয় পাওয়া যায় ।আমরা দেবতাপূজকগণ বলবো, আমরা গাছেরও গোড়ায় জল দেই প্রয়োজন বোধে শাখা প্রশাখাকে ছেঁটে দিয়ে গাছের পরিচর্যা করি।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজে দেবতা, ঋষি, পিতৃপুরুষ ও ব্রাহ্মণদের পূজা করেছেন ।শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধে বলা হয়েছে, "উপস্থায়ার্কমুদ্যন্তং তর্পয়িত্বাহহত্মনঃ কলাঃ।দেবানৃষীন্ পিতৃন্ বৃদ্ধান্ বিপ্রানভ্যর্চ্য চাত্মবান।।" উক্ত শ্লোকের সরলার্থ হলো,  সূর্যোদয়কালে তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) সূর্যের উপাসনা করেন এবং নিজ কলাস্বরূপ দেবতা, ঋষি, পিতৃপুরুষদের তর্পণ করেন ।অতঃপর তিনি কুলবয়োবৃদ্ধ ও ব্রাহ্মণদের বিধিপূর্বক পূজা করেন ।" তাহলে দেখা গেলো কৃষ্ণভক্তদের বিনা বাক্য ব্যয়ে  মান্য শ্রীমদ্ভাগবতে ও ভগবান কৃষ্ণের দেবোপসনার কথা বলা হয়েছে ।তাহলে সরলমনা সনাতনীদের কাছে আমার প্রশ্ন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যেখানে দেবদেবীর পূজা করেছেন সেখানে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের দেবতা পূজা করতে বাধা কোথায়? এখন আপনারা কিছু সংখ্যক কৃষ্ণভক্তদের কথা মানবেন না শ্রীকৃষ্ণকে অনুসরণ করবেন তা আপনাদের বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম ।

সবকিছু যুক্তি দিয়ে হয় না।যুক্তির খাতিরে যদি কেউ বলেন, শ্রীকৃষ্ণ যেখানে দেবতা পূজা করেন সেখানে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করে লাভ কি,দেবতা পূজা করলেই তো হয়, তাহলে কি ঠিক হবে? আমি ও এভাবে প্ররোচিত করছি না।আমার কথা হলো , আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা ও করবো এবং দেবতার পূজা ও করবো  ।তবে সবকিছু যেন সাত্ত্বিকভাবে হয়।

কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে যেয়ে বা নিজ সম্প্রদায়ের দল ভারী করতে মানুষকে ভুল ব্যাখ্যা দ্বারা প্ররোচিত বা প্রলোভিত করা ঠিক নয়। আর বৈষ্ণব ধর্ম কোনো ধর্ম নয় তা মতবাদ ।সনাতন ধর্মে বিভিন্ন মতবাদ আছে ।যে যে পন্থায় ঈশ্বর বা দেবতাকে ডাকেন তাতেই সাড়া দেবেন ।

কেউ কেউ হয়তো বলবেন, বর্তমানে কৃষ্ণভক্তদের বিরাট অংশ ইসকন ভক্ত সনাতন ধর্ম প্রচারে ও অন্য ধর্মের লোকদের ধর্মান্তরিত করে  প্রসারে বিরাট ভূমিকা রাখছেন।আমার মতে, সনাতন ধর্ম বিমুখ  সনাতনীদের মাঝে প্রচার করুন, প্রসারের প্রয়োজন নেই ।অন্য ধর্ম থেকে আমাদের সনাতন ধর্মে আনার প্রয়োজন নেই ।আমার জানামতে, খ্রিস্টান ধর্মের কিছু সংখ্যক লোককে সনাতন ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে । এছাড়া অন্য ধর্মের লোক আনা হয়েছে বলে আমার জানা নেই ।

আমার মতে, অন্য ধর্মের মায়ের কোল খালি করে আমাদের সনাতন ধর্মে আনার প্রয়োজন নেই ।খ্রিস্টান ধর্ম আহলে কিতাব বা আহলে ইসলাম ।অর্থাৎ তারা  কিতাবী এবং ইসলাম ধর্মের অন্তর্ভূক্ত ছিল ।ইসলাম ধর্মের লোক তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে তাদের ধর্মে নিলে ভালো হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস ।

সনাতন ধর্মের লোক হয়ে অন্য ধর্মের লোককে আমন্ত্রণ ও নিমন্ত্রণ দেয়া ধর্ম অনুমোদন করে না বলে আমার ধারণা ও দৃঢ় বিশ্বাস ।তবে আমার জানামতে, বেদে সকলকে আর্য ধর্মে দীক্ষিত করতে বলা  হয়েছে।সনাতন ধর্ম আর্য ও অনার্য দুই ভাগে বিভক্ত ।আমার মনে হয় অনার্যকে আর্য ধর্মে দীক্ষিত করার কথা বলা হয়েছে ।অন্য ধর্মের মায়ের কোল খালি করে আনলে মা বাবার রোদন ভগবান ও সহ্য করবেন না।জনশ্রুতি আছে, কোনো কোনো সংগঠন মা বাবার অনুমতি ছাড়া তাদের সন্তানদেরকে তাদের মতবাদে দীক্ষিত করার জন্য মঠে নিয়ে আসেন।তাও ঠিক নয়।মা বাবার অশ্রুতে ঈশ্বরের বৈকুন্ঠ নড়ে উঠবে ।কেউ কেউ বলেন, অভক্ত মা বাবার কাছ থেকে সন্তান আনলে কোনো পাপ বা অপরাধ হবে না।ঈশ্বরের চোখে ঈশ্বরের অভক্ত কেউ নেই ।তাঁর প্রিয় ও নেই অপ্রিয় নেই ।মা বাবার সন্তান যেমন  তাদের চোখে কুসন্তান হতে পারে না,ঈশ্বরের চোখে ও কুসন্তান বা অভক্ত নেই ।কাজেই, সনাতন ধর্মে আগমনের জন্য বা মতবাদী করতে কাউকে প্ররোচিত বা প্রলোভিত করে নিমন্ত্রণ দিয়ে আনা ধর্মোচিত ও মানবোচিত নয়।

কেউ কেউ হয়তো বলবেন, অন্য ধর্মের লোকেরা তো আমাদের ধর্মের লোককে ধর্ম গ্রহণের জন্য নিমন্ত্রণ দেয়।অন্য ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ আমি পাঠ করিনি ।তাই, প্রকৃত ধার্মিকরা তা ভালো জানেন আমার প্রস্তাব হলো, যদি অন্য ধর্মের লোককে সনাতন ধর্মে আনতে হয় তবে বৌদ্ধ ধর্মের লোককে নিমন্ত্রণ জানাতে পারেন ।কারণ, বৌদ্ধ ধর্ম সনাতন ধর্মের একাংশ ছিল ।বৌদ্ধ ধর্মের অবতার গৌতম বুদ্ধ সনাতন ধর্মের অবতার বলেও স্বীকৃত। সনাতন ধর্মের সদাচার ও মূলনীতির সাথে বৌদ্ধ ধর্মের অনেক মিল আছে ।যদিও গৌতম বুদ্ধ  সনাতন ধর্মের অবতার কি না এই বিষয়ে আমার কিছু খটকা আছে ।খ্রিস্টান ধর্মের লোক আমাদের সনাতন ধর্মে নিমন্ত্রণ করে আনা আমি সমর্থন করি না।কারণ প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব কালচার আছে যা জন্মের সাথে সাথে রক্তের সাথে মিশে থাকে ।অনেক নিষিদ্ধ জিনিস আছে তা বর্জন করতে সময় লাগবে ।তাছাড়া দুই ধর্মের স্বামী ও স্ত্রীর মিলনে সন্তান হলে তা বর্ণ সঙ্কর হবে ।সনাতন ধর্মের প্রতি এবং তার বর্তমান ধর্মের পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান নাও থাকতে পারে ।এতে শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের অভাবে পিতৃপুরুষ পতিত হতে পারেন ।কাজেই, অন্য ধর্ম তথা খ্রিস্টান ধর্ম থেকে এনে আমাদের সনাতন প্রসারে সাহায্য করছেন বলে আমি মনে করি না।

তবে প্রকৃত সনাতনী হিসেবে নিজের ধর্মে পরম নিষ্ঠা ও দৃঢ় বিশ্বাস এবং অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা বাঞ্ছনীয় ।

পরিশেষে বলি, আমাদের মূল ধর্মগ্রন্থ ভালোভাবে পাঠ করে মতভেদ ভুলে সব সনাতনী এক হওয়া প্রয়োজন।ব্লগের বন্ধুদের কাছে আমার অনুরোধ আমার পোস্ট ভালো না লাগলেও অবসর কাটানোর উপায় হিসেবে আমার পোস্টটি ভালোভাবে পাঠ করবেন বার বার আশা করি, আমার মূল উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন ।

দয়া করে আমার পোস্টটিভালো ভাবে পর্যালোচনা করে আলোচনাসহ মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হলো ।

আমার শব্দচয়ন ও বাক্যচয়ন জনিত ত্রুটি ও সকল প্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি এবং কাউকে অহেতুক আঘাত জনিত কারণে ক্ষমা প্রার্থী ।

Tuesday, May 4, 2021

শ্রাদ্ধ বিষয়ে শাস্ত্রীয় আলোচনা,

 শ্রাদ্ধকর্ম কি বিষয়ে শাস্ত্রে কি উল্লেখ  আছে, আসুন দেখে নেই,


পবিত্র গীতায় বলা হয়েছে, 

"সঙ্করো নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ ।

পতন্তি পিতরো হ্যেষাং লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ ।"

অন্বয়ঃকুলস্য সঙ্কর ( কুলের মিশ্রণ) কুলঘ্নানাং চ নরকায় ( কুলনাশকদের নরকের জন্যই)  চ এষাম্ ( এবং এদের) পিতরো হি (পিতৃপুরুষগণও) লুপ্তপিণ্ড + উদকক্রিয়া (পিণ্ডদান ও তর্পণ লুপ্ত হওয়ায়) পতন্তি ( পতিত হন)

সরলার্থ হলো, "যদি কুলের মিশ্রণ ঘটে, কুলনাশকগণ নরকবাসী হন এবং পিণ্ডদান ( শ্রাদ্ধ) ও তর্পণ ক্রিয়া লুপ্ত হওয়ায় তাঁদের পিতৃপুরুষগণও নরকে গমন করেন ।" উক্ত শ্লোকে বুঝানো হয়েছে, বৈধ সন্তানের অভাবে পিতৃপুরুষদের পিণ্ডদানের বা শ্রাদ্ধের অভাব ঘটে ।তাহলে গীতায় পিণ্ডদান তথা শ্রাদ্ধ ক্রিয়ার কথা পরিষ্কার উল্লেখ আছে ।

তাহলে, উপরোক্ত ব্যক্তির ভাষায় শ্রাদ্ধ ক্রিয়া ব্রাহ্মণ্য ধান্দাবাজি হলে তো কোনোদিন তা ভগবান কৃষ্ণের ধান্দাবাজি বলতে ও তার  মুখে  আটকাবে না।এমন বললে কি তাকে সনাতনী বলা যাবে? 

তাছাড়া পবিত্র বেদে বলা হয়েছে, "যাদের যথাবিধি ঊর্ধদৈহিক কার্য হয়েছে এবং যাদের তা হয়নি সে পিতৃগণ স্বর্গের মধ্যে স্বকর্মোচিত অন্নে সুখ লাভ করে।স্বরাট যম তাদের প্রার্থনা অনুযায়ী প্রাণযুক্ত মনুষ্য শরীর প্রদান করেন ( ( ১৯|৬০)।" সুতরাং দেখা যায়, বেদেও ঊর্ধদৈহিক ক্রিয়া তথা শ্রাদ্ধ ক্রিয়ার কথা উল্লেখ আছে ।সুতরাং বেদের ভাষ্য মানলে তো শ্রাদ্ধবিরোধীরা বলবেন ' শ্রাদ্ধকর্ম পরমেশ্বরের ধান্দাবাজি '।তা বলা কি ধর্মোচিত হবে? 



তাছাড়া শ্রাদ্ধ ক্রিয়া ব্রাহ্মণদের ধান্দাবাজি হলে ব্রাহ্মণগণ শ্রাদ্ধ ক্রিয়া করতেন না।ব্রাহ্মণদের শ্রাদ্ধ ক্রিয়া না করার নিদর্শন কি উনি বা উনার অনুসারীরা দেখাতে পারবেন? 

আমি নিজে একজন ব্রাহ্মণ সন্তান এবং পৌরহিত্য ও মাঝে মাঝে করি।আমরা গত ৪ফাল্গুন, ১৭,ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রয়াত মাতৃদেবীর স্বর্গ কামনায় ষোড়শ ও আদ্যৈকোদিষ্ট শ্রাদ্ধ ক্রিয়া করেছি।আমরা তিন ভাই ।অন্য দুইভাই হাইস্কুল শিক্ষক ।আমি নিজেও নামে মাত্র পণ্ডিত ।আমরা তিন ভাই মিলে যথাসাধ্য দানাদি কর্ম করেছি।অনেক যজমান আমাদের দান দ্রব্য দেখে অবাক হয়েছে ।কারণ, আমরা যজমানদের ক্ষেত্রে অনেক ত্যাগ স্বীকার করি।আমাদের মায়ের জন্য বৃষোৎসর্গ করার ইচ্ছা ছিলো ।বিভিন্ন কারণে করতে পারিনি ।শ্রাদ্ধকর্ম যদি ব্রাহ্মণদের ব্যবসা মনে করতাম তাহলে তো আমরা শ্রাদ্ধ ক্রিয়া ও দানাদি কর্ম করতাম না।

আমি প্রায় ২০বছর পূর্বে এক যজমানের মৃত্যুতে আদ্যশ্রাদ্ধ ও ষোড়শ দান করিয়েছি।মাত্র দুটো ধূতি ও চারটি গামছা যজমান এনেছিল ।বাকিগুলো বাড়ি থেকে নিয়ে কুলিয়েছি।বৈতরণী দেবার মতো ক্ষমতা ছিল না।এক বছর পর দুই শত টাকা দক্ষিণা দিয়েছে।

এভাবে অনেক ব্রাহ্মণই যজমানের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন ।

প্রকৃতপক্ষে, শ্রাদ্ধক্রিয়া করানো এবং দান দ্রব্য গ্রহণ করা শাস্ত্রে ব্রাহ্মণদের জন্য  নিষেধ আছে ।তবু ও যজমানদের মঙ্গলার্থে আমরা শ্রাদ্ধ ক্রিয়া করাই এবং অনটনের কারণে দান দ্রব্য বিসর্জন না দিয়ে আমরা গ্রহণ করি।

আর প্রতিটি ধর্মেই দান করার কথা বলা হয়েছে এবং দানকর্ম পূণ্যকর্ম বলে অভিহিত করা হয়েছে ।আমরা ব্রাহ্মণরা মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পিতৃপুরুষ ও দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে দান গ্রহণ করি। তা যদি  ব্রাহ্মণদের ধান্দাবাজি হতো তাহলে মন্ত্র পাঠ করে গলা ভেঙে বা নাড়ি ফুলিয়ে নেবার পদ্ধতি চালু  না করে সরাসরি দান গ্রহণ করার পদ্ধতি চালু করতাম।


যাহোক, ব্রাহ্মণদের মধ্যে ও কিছু ব্রাহ্মণ আছেন যারা অনেক সময় যজমানের সামর্থ্যের বাহিরে লিস্ট দেন তা অনস্বীকার্য ।তবে শ্রাদ্ধ ক্রিয়া যে শাস্ত্রবিরোধী তা মোটেই ঠিক নয়।বিভিন্ন শাস্ত্রে তার প্রমাণ আছে ।

সুতরাং, শ্রাদ্ধক্রিয়া ব্রাহ্মণ্যদের ধান্দাবাজি নয় তা শাস্ত্রের আলোকে ক্রিয়াকাণ্ড তথা আমাদের মূল ধর্মগ্রন্থ বেদ ও গীতা সমর্থিত এবং অনুমোদিত ।আর ধান্দা হয়ে থাকলে তা চোখের তথা দৃষ্টির এবং মনের ধান্দা।

তবে কেউ চার্বাক দর্শনের অনুসারী হলে আমার বলার কিছু নেই ।

ভগবান সবাকে সুমতি দান করুন এবং আমার আত্মীয়স্বজনসহ সবাকে করোনা এবং দুরারোগ্য ব্যাধি মুক্ত রাখুন তা করজোড়ে প্রার্থনা ।

পরিশেষে, আমার প্রয়াত পিতৃদেবতা ও মাতৃদেবী যেন সাধনোচিত ধামে প্রবেশ করে পরম শান্তি লাভ করেন তার জন্য সকল  বন্ধুদের ঐকান্তিক প্রার্থনা কামনা করি ।

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।

Tuesday, April 13, 2021

সনাতন ধর্মে সাত্ত্বিক খাবার প্রসঙ্গেঃ

 সনাতন ধর্মে সাত্ত্বিক খাবার প্রসঙ্গেঃ 


সনাতন ধর্মে খাবার নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই ।কেউ কেউ সনাতন ধর্মের আহার বা খাবার বিষয়ে আলোচনা করার অনুরোধ করায় আজ আলোচনায় ব্রতী হলাম ।

সনাতন ধর্মের কোনো ধর্মগ্রন্থে খাবার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আমার চোখে পড়েনি ।তবে পবিত্র গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের ৭-৯নং শ্লোকে প্রত্যক্ষভাবে বা সরাসরি বলা  না হলেও  পরোক্ষভাবে আহার বা খাবার বিষয়ে আলোচিত হয়েছে ।আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানপ্রসূত ধারণা থেকে এবার  আলোচনা করছি ।

পবিত্র গীতায় বলা হয়েছে, "আয়ুঃসত্ত্ববলারোগ্যসুখপ্রীতিবিবর্ধনাঃ।রস্যাঃ স্নিগ্ধাঃ স্থিরা হৃদ্যা আহারাঃ সাত্ত্বিকপ্রিয়াঃ( ১৭|৮)।।"উক্ত শ্লোকের সরলার্থ হলো, ,  "আয়ু, সত্ত্বগুণ, বল, আরোগ্য, সুখ,প্রীতি তথা চিত্তপ্রসন্নতা বৃদ্ধিকারী  এবং স্থায়ী, হৃদয়ে শক্তি বর্ধনকারী, সরস, স্নিগ্ধ- এরূপ আহার্য সাত্ত্বিক ব্যক্তিদের প্রিয় ।"

ব্যাখ্যাঃস্থিরাঃ- যা স্থায়ী বা পুষ্টিকর অর্থাৎ যা দুষ্পাচ্য নয়,সুপাচ্য এবং বহুদিন ধরে শক্তি প্রদান করে; ' হৃদ্যাঃ- হৃদয়,ফুসফুস ইত্যাদিকে শক্তি প্রদান করে ও বুদ্ধিতে সৌম্যভাব আনে; রস্যাঃ- ফল, দুধ,শর্করা জাতীয় খাদ্য; স্নিগ্ধাঃ-'ঘি,মাখন,বাদাম,কাজু, কিশমিশ  জাতীয় স্নেহযুক্ত সাত্ত্বিক ভোজ্য পদার্থ যেগুলো সুপুষ্ট,সুপক্ক এবং টাটকা ।

কেউ কেউ বলেন, মাছ, মাংস ও সাত্ত্বিক খাবার ।আমি তাদের কথার সাথে একমত নহি ।কারণ, মাছ মাংস উত্তেজক পদার্থ ।উত্তেজক পদার্থ সাত্ত্বিক হতে পারে না। তাছাড়া মনুসংহিতার পঞ্চম অধ্যায়ে মাছ মাংস খাবার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী শ্লোক লক্ষ্য করা যায় ।কোনো শ্লোকে সংস্কৃত মাছ মাংস এবং কোনো কোনো শ্লোকে কিছু নির্দিষ্ট মাছ খাবারের বিধান দেখা যায় ।আবার উপসংহারে 'মাংসত্যাগ মহাফলা '  বলা হয়েছে ।কাজেই, এসব বিবেচনায় মাছ মাংস সাত্ত্বিক খাবার হতে পারে না।( ৫|৫৬)। আবার যারা শাকাহারী বা প্রসাদভোজী বলে দাবি করেন তাদের যুক্তি হলো ,মাছ মাংস অমেধ্য অর্থে তামসিক খাবার যা বর্জনীয় ।আমার মতে তাদের কথা ও সঠিক নয়।কারণ'  অমেধ্য ' শব্দ দ্বারা অপবিত্র বা অশুদ্ধ বা নিষিদ্ধ বুঝায়।সনাতন ধর্মে মাছ মাংস আহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি ।আমার মতে মাছ মাংস রাজসিক খাবার ।


 আমার মতে, উদ্ভিজ খাবারই সাত্ত্বিক খাবার, প্রাণিজ খাবার সাত্ত্বিক হতে পারে না।তবে দুধ প্রাণিজ হলেও খাদ্যগুণে সাত্ত্বিক ।উদ্ভিজ খাবার সাত্ত্বিক বলেই আমরা দেবতার ভোগে নিবেদন করি।কেউ কেউ হয়তো বলবেন যে,দেবতার উদ্দেশ্যে তো পশু বলি দেয়া হয়।পশু আমরা উৎসর্গ করি, ভোগ হিসেবে নিবেদন করি না।যদিও শক্তি পূজায় বিশেষতঃ ভৈরব পূজায় মাংস ভোগ দেয়া হয় বলে জনশ্রুতি আছে ।কিন্তু আমি মাংসের ভোগ লাগানো সমর্থন করি না।

আমরা কোনো পূজা করতে হলে আগের দিন সংযম করে শাকাহার করি।ইন্দ্রিয় সংযমের জন্যই তো নিরামিষ আহার করি।একাদশী, পূর্ণিমা, অষ্টমী, শিব চতুর্দ্দশীর উপবাস করে ফলমূলাদি আহার করি,মাছ মাংস ভক্ষণ করি না।মৃতাশৌচ কালীন মাছ মাংস পরিহার করি।এগুলোকে আমরা সংযম বলে থাকি।সাত্ত্বিক আহার হিসেবে আমরা উদ্ভিজ খাবার ও ফলমূল  আহার করি। উপনয়ন সংস্কারে ব্রহ্মচর্য পালন অবস্থায় ফলমূল ও পায়েস আহার করি।প্রাণিজ খাবার সাত্ত্বিক হলে আমরা সংযম পালনকালীন তা আহার করতাম।

আমার জ্ঞানবশতঃ আমি আলোচনা করলাম ।বিজ্ঞ বন্ধুগণ আলোচনা করলে প্রীত হবো ।

Sunday, January 17, 2021

সমগ্র মানব জাতির পিতা ভগবান মনুকে কেনো বলা হয়েছে?

 সমগ্র মানব জাতির পিতা ভগবান মনু।

কিন্তু আমরা সকলেই দিব্য মহামুনি ঋষি গণের বংশধর।।


মনুও শতরূপার- দুই পুত্র প্রিয়ব্রত, উত্তানপাদ ও তিন কন্যা-আকূতি,দেবহূতি,প্রসূতি 

।অন্য দিকে মরিচী,অঙ্গিরা, অত্রি,পুলস্থ্য, পুলহ, ক্রতু, ভৃগু,বৈশিষ্ট, দক্ষ,ওঁরা কেউও মনুর পুত্র না,বা মনু বংশ না,কিন্তু উনাদের পুত্র পৌত্রাদি ক্রমে বংশ আছে,।

মনুর বংশধর আমরা যদি সবাই হই তবে একই রক্তের নারীপুরুষের সাথে বিবাহ নিষেদ করা হত না।কিন্তু স্বয়ং মনু নিজেই একই বংশের বা রক্তের সম্পর্কের মধ্যে নারীপুরুষের বিবাহ নিষেদ করেছেন।

এমন কি মনুর কন্যাগনের আপন ভাই থাকা সত্ত্বেও, পুত্রিকা ধর্ম অনুযায়ী প্রথম কন্যা আকূতিকে প্রজাপতি রুচির সাথে বিবাহ দেন।

২য় কন্যা দেবহূতি কে কর্দম মুনির সাথে বিবাহ দেন।তৃতীয় কন্যা প্রসূতি কে দক্ষের সাথে বিবাহ দেন।

 এতে সুস্প্রষ্ট যে সকলেই মনুর  বংশধর নয়, তবে মনু প্রথম প্রজাপতি রুপে /কন্যা বিবাহ দিয়ে প্রজাবৃদ্ধি তে মহৎভূমিকা রাখেন এবং এই হতে প্রজাবৃদ্ধি সূচনা হয়, তাই

সকল মানব জাতির পিতা মনু,তাই মনুর পত্নী শতরুপা হওয়াতে পিতার পত্নী মাতা হন। পরিশেষে বলি সনাতন শাস্ত্রের গোত্র বিষয়ে বিচার করলেই এবং একই রক্তের বন্ধন থাকলে বিবাহ নিষিদ্ধ করণ, তা মনু নিজেই বিধান দিয়াছেন,।তা হতে প্রমানিত যে মনু বংশ সকলে নয় বরং মুনিঋষিগনে বংশধর আমরা,আর মনু মানব সভ্যতাকে বিকশিত করেছে মানবের উৎস -মানে শক্তি, শান্তি, ধর্ম,জ্ঞান বিজ্ঞান,শাষণ, সুশৃঙ্খলা প্রদান করেছেন, মনুষ্যের ধর্ম (মনুর আচরণ ই মনুধর্ম্ম অর্থাৎ মনুষ্যধর্ম্ম)প্রজার ধর্ম শিখাইয়াছেন তাই মনুর শাষণে সমগ্র পৃথিবী ছিল। তাই মনুর নাম অনুসারে মানব জাতি পরিচিত।

আর এই মানব জাতির উৎস মনু, তাই মনুকে পিতা বা জনক বলা হয়।


উদাহরণ স্বরুপ বলা যাইতে পারে -বর্তমানে প্রতিটি স্বাধীন দেশেরই জাতির পিতা আছে, যেমন -বাঙ্গালির জাতির পিতা,ভারতবাসীর জাতির, পাকিস্তানিদের জাতির পিতা--তা লক্ষ্য করলেই বোঝিয়া যাবেন আশা করি।

                ((জয় শ্রীকৃষ্ণ))

          (শ্রী সমীরণ ভট্টাচার্য্য)

Tuesday, December 15, 2020

সনাতন ধর্মে বিগ্রহ আরাধনায় শাস্ত্রীয় প্রমাণঃ

 সনাতন ধর্মে বিগ্রহ আরাধনায় শাস্ত্রীয় প্রমাণঃ 

বৈদিক শাস্ত্রে পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং শ্রীবিগ্রহ পূজা পরিচর্যার মাধ্যমে তাঁর আরাধনার নির্দেশ দিয়েছেন ।ঋকবেদে বলা হয়েছে, "যিনি বহুলোকের কীর্তনীয় শ্রীবিষ্ণুকে হব্য দান করেন, যিনি যুগপৎ স্ত্রোত্র উচ্চারণের দ্বারা তাঁর পূজা করেন এবং মনুষ্যগণের হিতকর বিষ্ণুর পরিচর্যা করেন, তিনি মর্ত্যধন ইচ্ছে করে শীঘ্রই প্রাপ্ত হন( ৭|১০০|১)।" এখানে বিষ্ণু পরমেশ্বরের গুণবাচক নাম যা সর্বব্যাপী অর্থে ব্যবহৃত ।উক্ত মন্ত্রটিতে বিষ্ণুকে হব্যদান, পূজা ও পরিচর্যার কথা বলা হয়েছে ।যদি বিগ্রহ নির্মাণ শাস্ত্রানুমোদিত না হতো তাহলে হব্যদান, পূজা ও পরিচর্যার কথা উল্লেখ থাকতো না।তাছাড়া বেদের সার শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে, " শিলা ( প্রস্তর),দারু( কাঠ) ,ধাতু, ভূমি ( মাটি) আলেখ্য (ছবি),বালুকা, মন ও মণি এই অষ্ট প্রকারে ভগবানের বিগ্রহ প্রকাশিত হন(১১|২৭|১২)।"অর্থাৎ এই আটটি জিনিস পূজার আধার বা পাত্র ।

এই অধ্যায়ের ২৪নং শ্লোকে ভগবান বলেন,"উপযুক্ত মন্ত্রোচ্চারণ এবং শ্রী বিগ্রহের অঙ্গন্যাসের মাধ্যমে পরমাত্মাকে বিগ্রহের মধ্যে আহ্বান করে ভক্তের উচিত আমার আরাধনা করা।" পদ্ম পুরাণে স্পষ্ট বলা হয়েছে, " যে ব্যক্তি মন্দিরে অবস্থিত ভগবানের শ্রীবিগ্রহকে কাঠ- পাথর মনে করে, সে নারকী অর্থাৎ নরকে বাস করে ।"সুতরাং দেখা যায় যে, সনাতন ধর্মে বেদাদি ধর্মগ্রন্থে বিগ্রহ বা প্রতিমা পূজা অনুমোদিত ।তবে ঈশ্বর ও দেবতা এক নন।বিগ্রহে যেমন ঈশ্বরের পূজা করা হয়,তেমনি দেবতার পূজা ও করা হয়।যেমন দেবীদুর্গা, যিনি সাক্ষাত ভগবতী, তিনি কি তাঁর দৈব শক্তিতে মৃত্তিকা নির্মিত বিগ্রহে অবস্থান করতে পারেন না? আর যদি তিনি সেখানে অবস্থান করেন, সেটা কি মূর্তি না কি সাক্ষাত দেবী?

যারা মূর্তি পূজা করেন না,কিন্তু বেদ পাঠ করেন, বেদকে সম্মান করেন এবং পূজা করেন প্রকারান্তরে তো মূর্তি পূজা হলো ।বেদও পরমেশ্বরের বাঙ্ময়ী মূর্তি ।

উপাসনার জন্য যে দেব মন্দির স্থাপন করা হয় যার বিভিন্ন চূড়া থাকে সেটাও মূর্তি ।

সনাতন ধর্মে উপাসনার জন্য দুটো দিক নির্দিষ্ট আছে; পূর্বদিক ও উত্তর দিক ।কারণ পূর্বদিকে সূর্যদেব এবং পশ্চিমদিকে দেবালয় ।তাহলে নির্দিষ্ট দিকে দেবতারা আছেন বলেই তো সেইদিকে উপাসনা করা হয় নির্দিষ্ট লক্ষ্য রেখে ।

কেউ মূর্তি পূজা করুন না করুন অন্যের মতের বিরোধীতা কাম্য নয়।আমি আমার সংগ্রহের আলোকে কতটুকু বুঝাতে পেরেছি কি না জানি না,তবে আমার আলোচনা কারো কিছুটা উপকারে আসলে আমার লিখা সার্থক মনে করবো ।আসলে সনাতন ধর্মে প্রচারের অভাব বলেই প্রসার হচ্ছে না।সবাই এই বিষয়ে জ্ঞান দান করুন এবং খটকা নিরসন করার চেষ্টা করুন ।সনাতনের জয় হোক ।

Monday, December 14, 2020

সনাতন ধর্ম বিশ্বাস, বুকে পোষার ধন ,অন্তরে অনুভবের অনুষঙ্গ।এ ধর্মব্যবস্থা সর্বাধুনিক বলে সর্বজন স্বীকৃত।

 সনাতন ধর্ম বিশ্বাস, বুকে পোষার ধন ,অন্তরে অনুভবের অনুষঙ্গ।এ ধর্মব্যবস্থা সর্বাধুনিক বলে সর্বজন স্বীকৃত।তাই একে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে যুগপোযগি করা চলে না ,বা করতে হয় না।অজ্ঞতা মানুষকে লাটিমের মতো কিংবা কলুর বলদের মতো ঘুরায়-এগিয়ে দেয় না ।সনাতন ধর্ম ধারার অনুসারী বাঙ্গালীরা রক্তসঙ্কর জাত বলে বারংবার অভিযুক্ত হলেও অন্তরে তাঁরা তাদের মানস-স্বাতন্ত্র্য এবং স্বভাবের বৈশিষ্ট্য কখনো হারায়নি।প্রমাণে- অনুমানে অনেক জাতির রক্ত জ্ঞাত ও অজ্ঞাত সারে এদের ধমনিতে সঞ্চারিত হয়ে থাকলেও কোটি কোটি বছর ধরে যে বৈদিক শাস্ত্র,শাসন ও সংস্কৃতির ধারা তা তাদের অন্তরে আজও ফল্গুধারার ন্যায় বহমান।এ উপমহাদেশের মানুষ সর্বদা সনাতন সংস্কৃতি, শিক্ষা -ভিত্তিক আজন্ম সংস্কারকে ঐতিহ্যানুগ আদর্শ বলেই মানে ও শ্রদ্ধা করে থাকে ।এই আদর্শ গণমনে গভীর ও ব্যাপক স্থান দখল করে নিয়েছে। সনাতন স্থুলদেহ চর্চা ক্রমশঃ সূহ্ম মানস চর্চায় উন্নীত হয়েছে।

       ভারত উপমহাদেশের কিছুসংখ্যক ব্যক্তি লোভের মোহে রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলবার সন্ধ্যানে বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরেছে কালো পিঁপড়ের মতো আবার   রাজার ধর্মই প্রজার ধর্ম ,এই অমানুষিক রীতি নীতি বিভিন্ন সময় জীবণ জীবিকার তাগিদে সনাতনি বাঙ্গালিদের বিভ্রান্ত করলেও মিশ্র রক্ত প্রসূত নব্য সংস্কার তাদের মূল বৈদিক ধারাকে কখনো নিঃস্প্রভো করতে পারেনি। বৈদিক আচার আচরণ সামাজ সংস্কৃতি নিয়ম নীতি প্রথা-পদ্ধতি বিশ্বাসের সবটাই আজও স্থিতিশীল রয়েছে বাঙ্গালীর মর্মমূলে। পরধর্মের ভয়াবহ প্রভাব মাঝে মধ্যে দেখা দিলেও এরা সজাগ সচেতন।মানবিক বোধে এদের চিত্তের প্রসার এবং রুচির বিকাশ ঘটেছিল ।দেশজ সংস্কৃতি, পবিত্র জলবায়ু ও ভৌগলিক মহিমা ভারত উপমহাদেশের মানুষ গুলোর চিত্তহরণ করে রাখে অজ্ঞাত সারে।


        বাঙ্গালী  বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে বিদেশী ধর্ম গ্রণহণ করেছে বটে,কিন্তু কোন ধর্ম ব্যবস্থাই সে অবিকৃত রাখেনি।জৈন,বৌদ্ধ ও ইসলামকে সে নিজের পছন্দ মতো রুপ দিয়ে আপন করে নিয়েছে। নৈরাত্ম্য নিরীশ্বর বৌদ্ধধর্ম এখানে মন্ত্রযান , কালচক্রযান,বজ্রযান-সহজযানে বিকৃতি ও বিবর্তন পায়।বৌদ্ধ চৈত্য হয়ে ওঠে অসংখ্য দেবতা-অপদেবতার আখড়া।জৈনধর্ম পরিত্যক্ত হয়।ইসলাম ওয়াহাবি - ফারায়েজি আন্দোলনের আগে পীরপূজায় অবসিত হয়।ইতিহাস পর্যালোচনা করে মনীষিরা দেখেছেন ,ভারতীয় মুসলমান সূফিদের উপর বৈদান্তিক অদ্বৈততত্বের ও যৌগিক দেহতত্বের গভীর প্রভাব পড়েছিল।এবং চৈতন্যোত্তর যুগে অদ্বৈত তত্বের প্রভাব সর্বব্যাপী ও গাঢ়তর হয়েছিল , আজন্মের সংস্কার বশে তারা দেশ কালের প্রভাব এড়াতে পারেনি।আরও দেখা যায় ভারতীয় যোগানুগ মরমীয়া সাধন পদ্ধতিই এদেশীয় মুসলীম সমাজে বহুল প্রচলিত।বাউল সাধনাও মুসলিম সমাজে সমাদৃত হয়।

        অবশ্য সবধর্মই কালে কালে স্থানে স্থানে বিকৃত হয়, কিন্তু বৈদিক ধর্মের বিকৃতিতে সনাতনীদের স্বভাব ও মনন যত প্রকট,এমনটি অন্যত্র বিরল। সনাতনীরা সর্বকালে তাদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে পেরেছে,কারণ  বৈদিক আদর্শে সংস্কৃতিতে তারা আস্থা ও আনুগত্য হারায়নি।যারা বেদাদি শাস্ত্রনিষ্ঠ কিছুতেই কখনো বিচলিত হয়নি।তার অন্যতম কারণ ভারত উপমহাদেশের অধিবাসীরা মুখে যে বুলি আওড়ায় না কেন ,আসলে তারা ঐতিহ্য প্রথা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সর্বদা মান্য করে শ্রদ্ধা করে বলে আয়ুবর্ধক যোগাসন তার প্রিয়,শক্তি দায়ক তন্ত্র তার অতি প্রিয়। ভারত উপমহাদেশের লোকেরা সর্বদা অমরত্বকামী।তাদের কাছে ভবসমুদ্র পারি দিতে পুন্যকর্মই মন-পবনের নাও।আত্মকল্যাণ ও আত্মমোক্ষ লাভের জন্য তারা সদ্ গুরুর দীক্ষা কামনা করে।বৈষয়িক জীবণকে তুচ্ছ জেনে তাদের কাছে অভিনন্দিত হয়েছে সেই প্রাচীণ বৈদিক মুনি-ঋষি-যোগীদের দিকনির্দেশনা।সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রাচীণ অথচ সর্বাধুনিক  সংস্কৃতির ধারক বাহক  ।এরা সাময়িক ভাবে বিচলিত হলেও বিনষ্ট হয় না,কখনো হবেও না।

মানব সেবা

 মানব সেবা

"""""""""""""""""""

-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

"""""""""""""""""""""""""""

মানুষ হইয়া জন্ম লইয়া

আসিয়া ভব মাঝে

নিজেরে নিয়া মগ্ন থাকা

কভু নাহি সাজে।


ঈশ্বর মানবে পাঠাল ভবে

করিতে জীব সেবা,

মানুষ মাঝে এমন মানুষ

শ্রেষ্ঠ আর কেবা।


মানুষ হইয়া যেবা করে

জীব কুলের সেবা

‌মানুষ হইয়া মানুষেরে

ভালবাসে যেবা।


মানুষ লাগিয়া হাসিয়া হাসিয়া

করিলে জীবন দান,

ইতিহাসে তাহার নাম ভবে

থাকিবে  অম্লান।


হিংসা নিন্দা পরচর্চ্চা

লুন্ঠন অপরাধ,

অন্যের ধন চুরি করা

যার বড় সাধ।


সর্ব জাতি ঘৃনা করে

সেই মানুষেরে

তার কোন নাই সম্মান

অবনীর উপরে।


ধর্ম ধর্ম করে কেন

ধরেছ সাধু সাজ,

করিলে কেবল পরের ক্ষতি

ত্যাগ করিয়া লাজ।


কিবা হবে এসব করে

হবেকি লাভবান

পাবেকি কভু এই জগতে

মানুষের সম্মান?


মানুষ হইয়া মানুষেরে

ভালনা ভাসিলে ভবে

পরকালে শুকর হইয়া

 জনম লভিবে।


জনম নিবে নীচু কুলে

গ্লানি ভরা মনে,

বেঁচে থাকবে এই ভবে

 নিন্দার সনে।


সময় থাকিতে কর সেবা

মানবের লাগিয়া

মরিয়াও অমর হইবে

দেখনারে ভাবিয়া।


পরজন্মে ব্রাহ্মণ কিবা

জন্মিবে রাজ কুলে

বিচার করেন ঈশ্বর বিধাতা

যিনি আছেন মূলে।

Sunday, December 13, 2020

জাতির পিতা শেখ মুজিব রহমানের বিজয়ের মাস ১৬ই ডিসেম্বর,

  বিজয় মাস,

"""""""""""""""

-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

******************************

শোষণ শাসন অত্যাচার মানুষের উপরে,

করেছিল হানাদার দলে রাত্র দিন ধরে।

শত্রুরা সবে ঝাপিয়ে পড়ল প্রতি ঘরে ঘরে

কেড়ে নিল মা বোনের সম্মান বিবস্ত্র করে

রক্ত গঙ্গা বইয়ে দিল নিষ্ঠুর হানাদার দল

রক্তে রাঙা হল সেদিন পদ্মা মেঘনার জল

দুঃখ কষ্ট সইতে না পেরে বাংলার জনতা

জাগত্র হল সকলে মিলে হয়ে একাগ্রতা

প্রজার মনে শান্তি দিতে বাংলার কান্ডারি

যুদ্ধ ঘোষনা করে দিলেন ন্যায়ের দন্ড ধরি

জাতির পিতা শেখ মুজিব দেখাল মমতা

শত্রু বধে ঝাপিয়ে পড় দিলেন সর্ব ক্ষমতা

যার যাহা আছে অস্ত্র লও সবাই হাতে

প্রতিঘাত্ কর সবাই মিলে শত্রুর আঘাতে

ছিনিয়ে নাও শত্রুর জীবন দিলেন ঘোষনা

সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে সব মুক্তি সেনা

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টান সকলে মিলে

যুদ্ধ শুরু করে দিল মাট ঘাট আর বিলে

রক্ত ক্ষয়ি যুদ্ধ করল বাংলার মুক্তি সেনা

মা বোনের ইজ্জত্ দিয়ে রক্ত দিয়ে কেনা

শত্রুরা সবে নিপাত্ গেল মুক্তি পেল মান

মা বোনেরা সম্মান পেল গর্বে গরিয়ান

বিজয় হল সোনার বাংলা ষোল ডিসেম্বরে

জয় বাংলা ধ্বনীত হল প্রতিটি ঘরে ঘরে

আউল বাউল মুখে মুখে কবির কন্ঠ স্বরে

গাইল সবাই মুখে মুখে আমরা অভিলাসি

হে সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি

ঘরে ঘরে উড়ছে সবার বিজয়ের পতাকা

যেখায় আছে সোনার বাংলার সোনার ছবি আঁকা।

              

ধর্ম ও মত বলিতে কি বুঝায়?

 গুরুর পাঠশালা

****************

"ধর্ম ও মত "

*************

       -পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

*************************

       *** আজকের আলোচ্য বিষয়-

"ধর্ম ও মত বলিতে কি বুঝায়"---

---------------------------------------------------

প্রিয় সুধী,

          সাধারন মানুষের প্রশ্ন-- এত মত পথের মধ্যে মানুষ আজ দিশেহারা।কি করিয়া মানুষ মুক্তি লাভ করিবে সেই কথা বুঝিয়ে বলুন।

      তাই আজ সাধারন মানুষের দ্বিধাদন্দ মোচনের লক্ষেই আমার আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস ব্যাক্ত করিতেছি।

--+-++---------++++----------++++----------

      বিশ্লেষনঃ-" ধর্ম ও মত"

               *********

     ১। প্রশ্নঃ-ধর্ম কি এবং কাহাকে বলে?

      উত্তরঃ-ধর্ম কি-

   প্রথমে "ধর্ম" - শব্দটি অর্থ জানব-

"""""""""""""""""""""""""""""""

 ঈশ্বরোপসনার পদ্ধতি;  আচার আচরন ও পরকালের বিষয়ে নির্দ্দেশ ও তত্ত্ব জ্ঞান: পুণ্যকর্ম বা সত্যকর্ম; প্রবনতা; ভিরুতা; বিশ্বাস;  স্বধর্ম বজায় রাখা;  ধর্মে বিশ্বাস; সদাচার; মানবের ধর্ম- সদাচার,কর্তব্য ও অকর্তব্য; সুনীতি ও আচরন বিধি; জীব বা বস্তুর নিজস্ব গুন বা ধর্ম; পশুর ধর্ম 

   ইত্যাদি ইত্যাদি ।


  প্রশ্নঃ-ধর্ম কাহাকে বলে?

  উত্তরঃ-"ধর্ম- ঈশ্বরের ইচ্ছায় সৃষ্টির প্রারম্ভে প্রকৃতি যে গুন লাভ করে ,তাহাই ধর্ম।


    প্রিয় সুধী, 

            উপরের শব্দার্থ ও সজ্ঞা দ্বারা আমরা বুঝিতে পারিলাম যে, ধর্ম হচ্ছে প্রকৃতির গুণ।যাহা সর্ব জীব বা পদার্থ সৃষ্টি লগ্নেই ঈশ্বর হইতে লাভ করিয়া থাকে।যাহা মানুষ কোন মতেই সৃষ্টি করিতে পারেন না।কারন তাহা ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্টি হইয়া থাকে।শ্রী বেদও ঈশ্বরের মুখশ্রীত বানী।

     সুতরাং এই ধর্মই- সত্য, সঠিক ও সনাতন। যার দ্বারাই জীব মুক্তি লাভ করিয়া থাকে বা করিবে। কারন প্রকৃতি জাত ধর্মের কোন প্রকার ত্রুটি থাকিতে পারে না।কারন তাহা ঈশ্বর প্রদত্ত । তাই এই পথই অর্থাৎ ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্ট পথই মানবের জন্য শ্রেষ্ঠ পথ।ইহাতে দ্বিমতের আর কিছুই নাই।

     শ্রী বেদ  অপৌরষের, নিত্য ,সত্য ও সনাতন । এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পরেও বেদজ্ঞান অক্ষয় থাকিবে। তাই শ্রী ভগবান বলিয়াছে- 

    'বেদজ্ঞানই আমার মত,তাহা কখনোই বিলিন হবেনা বা হইতে পারেনাঊ। আর যে মত মানব কর্তৃক সৃষ্টি হইয়াছে তাহা অচিরেই ধ্বংস হইয়া যাইবে।"

            -শ্রী ভগবান উবাচ


   প্রিয়সুধী, এবার সকলের বিবেকের কাছেই ভাল ও মন্দ বিচারিক ও সিদ্ধান্তের ভার দিয়া দিলাম।

      

 ২।প্রশ্নঃ-" মত"কি এবং কাহাকে বলে?

   উত্তরঃ- প্রথমে  " মত"- শব্দটি অর্থ জেনে নেই-


মত

"""""

 মানুষের মনের ভাব;  অভিমত;  সম্মতি;  সিদ্ধান্ত;

ধারা;  পদ্ধতি;  বিধি;  নিয়ম;  প্রণালী; বিরোধ;   পারস্পরিক আলোচনা।


    প্রশ্নঃ- মত কাহাকে বলে?

    উত্তরঃ- মানুষের চিন্তা বা মননশিলতার মাধ্যমে  যাহা করা হয় তাহাকে "মত" বলে।      অর্থাৎ‌ , মানুষ নিজের মননশীল চিন্তা চেতনার মাধ্যমে যে অভিমত ব্যাক্ত করিয়া থাকেন ,তাহাকেই‌  "মত" বলে।

        সুতরাং, আমরা এই শব্দার্থ ও সজ্ঞা দ্বারা বুঝিতে পারিলাম যে, মতামত শুধুই মানব কর্তৃক সৃষ্টি । যাহার মধ্যে ভগবানকে সম্পৃক্ত করা হয় নি। এতে কাম্যতা রহিয়াছে। সুতরাং মানবের মতামতে  মুক্তির সম্ভাবনা নাই। কারন তাহাতে রজঃগুন ও তমঃগুনে পরিপুর্ন রহিয়াছে। তাই তাহা বর্জনীয়।

      প্রিয় সুধি,এইবার বিচারের ভার আপনাদের।তার পরেও আমি এই টুকুই বলিব যে,সংসারে থাকিয়া স্ত্রী পুত্র স্বামী পরিজন নিয়া নিরবিঘ্নে থাকিয়া নিয়মের মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রিতির উদ্দেশ্যে ভগবত ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের সেবা করে যাওয়াই সব চেয়ে উত্তম । যে হেতু স্বামীও স্ত্রী এই দুইয়ের সমন্বয়েই এই সংসার, তাই বৈদিক শান্তিই শ্রেষ্ঠ শান্তি এই চিন্তা করিয়া বিধি সম্মত সৃষ্টিকে বর্দ্ধিত করাই সবচাইতে উত্তম ।


    পৃথিবীতে প্রায় ৪২০০টির বেশি" মত" রহিয়াছে।

   সঙ্গত কারনেই মত গুলোর নাম উল্লেখ্য করা হইল না।

    কি লাভ হইল এত মতামত তৈরী করিয়া,কেউ এমন গেরান্টি দিতে পারিয়াছে যে,আমার মতামত দ্বারা ঈশ্বর লাভ হইয়াছে?

   কিছুই লাভ হয়নি, বরং  লাভ হয়েছে এই টুকুই যে, যতই নিজেকে  মহাপুরুষ তৈরী করুন কেন,তার মতের দ্বারা শুধু সনাতন ধর্ম বিভক্তই হইয়াছে, জোড়া আর দিতে পারেননি। সৃষ্টি হইয়াছে হিংসার,অকল্যান হইয়াছে সাধারন মানবের। কর্মে দোষ থাকবেই। ধর্ম বিষয়ে বাড়াবারি করিয়া জন্ম হার কমিয়া গিয়াছ কিন্তু বৃদ্ধি ঘটাতে পারেনি।শ্রীভগবান কর্মে দোষ থাকার কথা বলিয়াছে কিন্তু কর্মকেতো বাদ দেবার কথা বলেননি।

   তাহা হইলে দোষ  কোথায়? আসল দোষ আমাদের মনে, আমাদের চিন্তা চেতনায়। সেটা হচ্ছে -আধিপত্ত বিস্তারের কৌশল। যাহা সনাতন ধর্মকে কালে কালে করিয়াছে আঘাত প্রাপ্ত।আর দোষ দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাহীন ব্রাহ্মণদের, দোষ দেওয়া হয়েছে শ্রুতি ও স্মৃতি শাস্ত্রের । যাহা কোন দিনই সনাতন ধর্মের মানুষ আশা করেননি।

   

  প্রশ্নঃ মানবের ধর্ম কি?

‌‌উত্তরঃ- 

            ১। কর্তব্য ও অকর্তব্য সমন্ধে জ্ঞান;

            ২।সদাচার;

            ৩।সুনীতি;

             ৪।আচরন বিধি।

     মানুষের সজ্ঞা- যে ব্যাক্তির মধ্যে- কর্তব্য ও অকর্তব্য সমন্ধে জ্ঞান থাকে,থাকে সদাচার,থাকে সুনীতি ও ভাল আচরন বিধি তাহাকেই মানুষ বলিয়া থাকে।


 বিঃদ্রঃ- অবশ্যই মানুষের মধ্যে এই চারটি গুন থাকিতে হইবে। আর না হয় সেতো মানুষই নয়।

      অর্থাৎ মানুষ যখন প্রবল তমঃ গুনের প্রভাবের মোহে পরিয়া বেদ ও স্মৃতি শাস্ত্রকে ব্যাতিরেখে বা ভুলিয়া নিজের বিভিন্ন মতামত সৃষ্টি করেন বা করিতে চাহেন, সেটাই আসুরিক ভাব বা আসুরিক কর্ম।

      সুতরাং সেই ব্যাক্তির সকল কর্মই আসুরিক কর্ম ।শ্রী ভগবান আসুরিক কর্মকে বর্জন কতিবার কথাই বলিয়াছে গীতাতে। তাহাতে মুক্তিতো সেটা স্বপ্নের কথা,বর্ং চুরাশী লক্ষ নরক কুন্ড পুনঃরায় পরিভ্রমন করিতে হইবে ,এতে আর সন্দেহের কিছুই নাই। 

      প্রিয় সুধী, কালে কালে কিছু কিছু মানুষ বিভিন্ন মতামত তৈরী করিয়া শুধু সনাতনকে বিভক্তই করেননি , কলঙ্ক লেপন করিয়াছেন পবিত্র সনাতন ধর্মের সর্ব অঙ্গে। 

    তাই আজ এই দ্বিধাদন্দের সন্ধি লগ্নে কিছু মানুষের অনুরোধে সামান্য ও সল্প পরিসরে  ধর্ম ও মতের উপর তত্ত্ব বিশ্লেষনঃ উপস্থাপন করিতে চেষ্টা করিলাম। তার সমস্ত বিচারিক ভারই আপনাদের উপর। আমি মনেকরি, যে যেমন কর্ম করিবে সে পরবর্তি জন্মে তেমন কর্মফলই ভোগ করিবে ইহা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

       পরিশেষে সকলের মঙ্গল ও সুসাস্থ কামনা করিয়া আমার ভুলে সমৃদ্ধ জীবনের নিরীখে "ধর্ম‌ ও মত" বিষয়ের উপর ক্ষুদ্র লেখার এখানেই ইতি টানছি।


       ওঁতৎসৎ: জয় শ্রী পবিত্র বেদ,জয় পবিত্র সনতনের জয়,জয় শ্রী বিষ্ণুদেব । 

                """"""""""""""""""""""

Saturday, December 12, 2020

স্রষ্টা ও সৃষ্টির মূল তত্ত্ব

 স্রষ্টা ও সৃষ্টি

**************

-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

***********************

স্রষ্টা কি?

উত্তরঃ- যিনি সৃষ্টি করেন।


সৃষ্টি কি?

উত্তরঃ স্রষ্টা যাহা সৃষ্টি করেছেন।


শ্রীবেদ কি?

উত্তরঃ ঈশ্বরের নির্দ্দেশ বা ঈশ্বরের মুখশ্রীত বানী ।


পুরাণ কি?

উত্তরঃ শ্রীবেদের বিস্তারিত আলোচনা।


স্মৃতি কি?

সনাতন ধর্মের মানুষের কল্যানে ও সঠিক পথে পরিচালনার জন্য শ্রীবেদ বা পুরাণ থেকে উদ্ধৃত বিধি বিধান বা বাধ্য বাধকতা সমূহ।


ব্যাসদেব কে?

     উত্তরঃ যিনি এই সকল শাস্ত্র সমূহ সম্পাদনা করেছেন, তিনিই হলেন এক মাত্র সম্পাদক এই ব্যাসদেব। তিনি ব্যাতিত আর কোন সম্পাদক পৃথিবীতে নাই এবং আর কেহ আসিবেও না।তাই এই বিধি বিধানই  চলবে অনন্ত কাল পর্যন্ত।


    যাহারা মোহ বশে এই সকল পবিত্র শাস্ত্র সমূহকে বা শাস্ত্রের বিধি বিধানকে পরিবর্তন করিতে চায় বা করে বা অবমাননা করে বা করিতে চায়, বুঝিতে হইবে যে, তাহার হয় আধা পাগল আর না হয় আসুরিক মনোবৃত্তির ব্যাক্তি।এদেরকে এড়িয়ে চলাই উত্তম ।


    যাহারা মোহবশে সাধারন মানুষকে অসত্য ব্যখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করিতেছেন,এদের কাছ থেকে শত মাইল দূরে থাকাই উত্তম।

কেহ হয়তো বলবে এত নিষ্ঠুর কথা কেন বললাম? বললাম এই জন্যই যে,শ্রী ভগবান নিজেই বলেছেন যে- যে ব্যাক্তি আমার কথার দোষ ধরে, যে আমার আদেশ উপদেশকে ভালবাসেনা ,তাহাকে আমার শাস্ত্র বলিবে না। 

   এই জন্যই এই কথা বলা  হইল।


     আমরা যদি ভগবানের মুখশ্রীত বানীকেই নিজের বা পৈত্রিক সম্পত্তি বলে মনে করে থাকি,তবে আর ঈশ্বরকে ডাকার প্রহসণ কেন? এই সকল শাস্ত্র নিয়ে নাড়াচারা কেন? পারলে নিজের মত করে ভিন্ন  কিছু করি না কেন?


    বাবা লোকনাথ ৫০ বছর হিমালয়ে কঠিন সাধনা করেছেন। তার পরবর্তীতে বাবা লোকনাথকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- আমিতো ঈশ্বরকে দেখিনি,তবে তাঁর মহিমাকে উপলব্ধি করতে পেরেছি যে,ঈশ্বরকে লাভ করা অত সহজ সাধ্য ব্যাপার নয়।


    তাহলে যাহারা এখন ধর্ম ধর্ম করে উদাসিন হয়ে যাচ্ছেন তাহারা?

     উত্তরঃ পথভ্রষ্ট তাহারা।


    তাহলে আমাদের উপায়?

উপায় একটাই। তাহা হল- এই কঠিন জড় জগতে বেঁচে থাকার জন্য সৎপথে থেকে সংসারে কর্মও করতে হবে এবং শাস্ত্রের নির্দ্দেশ অনুযায়ী যথা সাধ্য যজ্ঞাদি কর্ম করতে হবে এবং গুরুদেবের আশ্রিত হয়ে পথ চলিতে হবে।


   সর্বশেষে একটাই কথা, যদি আমরা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করি, স্রষ্টাকে ভালবাসি-তবে তাঁর সৃষ্টিকেও আমাদেরকে ভালবাসতে হবে ,বিশ্বাস করতে হবে।

  তবেই এই দুঃখ সংসার হইতে আমরা পাব স্বর্গ বা চিরমুক্তি পথ!


    হে মহামতি,ভুলত্রুটি মার্জনা করিবেন!

             জয় রাধে, জয় ব্রহ্মবাদ

Wednesday, December 9, 2020

শাঁখা ও নোয়া,

 শাঁখা ও নোয়া

****************

শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্তী

************************  

  মঙ্গল চিহ্ন,

প্রভুর চরণ করিয়া স্মরণ

অধমে মিনতি জানাই,

তোমার চরণ সেবিয়া যেনগো

মরণে স্মরণ পাই।


কিবা লিখিব কলম ধরিব

তাহার সাধ্য নাই

প্রভু যদি করেগো কৃপা

তবেতো শক্তি পাই।


শাঁখা আর নোয়ার কথা

বলিব বিস্তারি আজ

ধর্মের কল্যানে করেন বিধি

এমন গুরু কাজ।


শঙ্খাসুর নামেতে অসুর

ছিল মর্ত ধামে

স্ত্রীরূপে ধরিয়া রাখিল তিনি

তুলসীরে বামে।


শঙ্খাসুরে পাইয়া তুলসী

অনন্দে ভরা মন

স্বামীর চরণ ভজে যতনে

দিয়া দেহ মন।


শঙ্খা সুরের অত্যাচার

দেখিয়া দয়াল হরি

বধিবে তাহারে ভাবিল মনেতে

ভাসাতে ধর্মের তরী।


সতী নারীর পতি কভু

মরেনা কোন ক্ষণে

এই বিষয়ে চিন্তিল তিনি

প্রভু নারায়ণে।


ভক্তের বাসনা পূর্ণের লাগিয়া

প্রভু জনার্দন

সতীত্ব করিল ম্লান প্রভু

উদ্ধারে সাধুজন।


নারায়ণ আর শঙ্খ অসুরে

বাঁধিল মহারণ

চক্র দিয়া শঙ্খের দেহ

করিল আক্রমন।


শঙ্খের অস্থি খুলে খুলে

পড়িল সাগর মাঝে

সেই অস্থিতে শঙ্খের জন্ম

আছে পুরাণ মাঝে ।


স্বামীর মৃত্যুতে নারায়ণে 

দিলেন অভিশাপ

তোমার পূজা করিবেনা 

মর্ত্তে নারীজাত।


তোমার শরীরে কলঙ্ক চিহ্ন

দিয়ে গেলাম আমি

অন্যায় ভাবে মেরেছ প্রভু

রণে আমার স্বামী।


প্রভু বলে শোনগো ধনি

তোমায় বর দিলাম

নারী সবে পড়িবে হস্তেতে

শঙ্খবালা নাম।


দোষের লাগিয়া নারী কভু

শাঁখ বাজাবে না

শাঁখ বাজালে অধঃগতি

শাস্ত্রে তাই মানা।


স্বাত্বিক গুণেতে  নারীগণ

শাঁখা রাখিবে হাতে

স্বামীর আয়ু বৃদ্ধি তার

জেন হবে তাতে ।


লোহার আরেক নাম নোয়া

ডাকে জ্ঞানিজনে

ত্বম গুণের প্রতীক তাহা

জানিবেন মনে।


এই কারণে শাঁখা নোয়া

সধবা নারীর ভূষণ

নোয়া শাঁখা পড়ে নারী

করিয়া অনেক যতন।


সংক্ষেপেতে শাঁখা নোয়ার

তত্ত্ব দিলাম ইতি

গাহিলাম তুলসী বাখান

মধুরস গীতি।


অধম পবিত্র রচিলাম

শাঁখা নোয়া তত্ত্ব 

শাস্ত্রের মাঝে ব্যাসদেব

লিখলো যাহা সত্য।   

ব্রাহ্মণ জাতি সর্ব্বদাই পূজনীয়।

ব্রাহ্মণ জাতি সর্ব্বদাই পূজনীয়। তা ভাগবত আদি সকলপুরাণশাস্ত্রে বর্ণনা করেছেন।
কলিকালের আগাম ভবিষ্য বর্ণনা করে যে শাস্ত্র বলাহল তা কল্কিপুরাণ সেখানে ও আমরা পাই যে--
তস্মাদিমে ব্রাহ্মণজাস্তৈঃ পুষ্টাস্ত্রিজগজ্জনাঃ।
জগন্তি মে শরীরাণি তংপোষে ব্রাহ্মণো বরঃ।।
তেনাহং তান্ নমস্যামি শুদ্ধসত্ত্বগুণাশ্রয়ঃ।
ততো জগন্ময়ং পূর্ণং মাং সেবন্তেহখিলাশ্রয়াঃ।। কল্কিপুরাণ প্রথমাংশের ৪/১১,১২
দ্বিজাতি দ্বারাই বেদ প্রকাশ প্রাপ্ত হয়,ঐ বেদ হইতে সংসার সর্ব্ব লোক সুরক্ষিত হইয়াছে।নিখিল লোকই আমার দেহ,সুতরাং আমার দেহপোষণ বিষয়ে দ্বিজাতিই প্রধান সাধন স্বরুপ।এই জন্যই আমিপবিত্র সত্ত্বগুণাশ্রয় হইয়া সেই সকল ব্রাহ্মণকে প্রণাম করি,সকলের আশ্রয় স্বরুপ দ্বিজাতিগণও আমাকে পূর্ণজগন্ময় জ্ঞানে সেবা করেন।।

ভগবান কল্কি আর বললেন যে
ভূদেবা ব্রাহ্মণা রাজন্! পূজ্যা বন্দ্যাঃসুদুক্তিভিঃ।
চতুরাশ্রম্যকুশল মম ধর্ম্ম প্রবর্ত্তকাঃ।।
বালাশ্চাপি জ্ঞানবৃদ্ধাস্তপোবৃদ্ধা মম প্রিয়াঃ।
তেষাং বচঃ পালয়িতুম্ অবতারাঃ কৃতা ময়া।।প্রথমাংশের৪/২৩,২৪
বিপ্রগণ ভূদেব বলিয়া পরিগণিত,সুতরাং তাঁহাদিগের অর্চনা করা ও সৎকথা দ্বারা তাঁহাদিগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা বিধেয়।তাঁহারা গার্হস্থ্যাদি সকল আশ্রমে অবস্থান পূর্ব্বক আমার ধর্ম্ম প্রচার করিয়া থাকেন।বিপ্রগণের মধ্যে যাঁহারা বালক,তাঁহারাও জ্ঞানবৃদ্ধ,তপোবৃদ্ধ ও মৎপ্রিয় সন্দেহ নাই।তাঁহাদের মুখবিনিঃসৃত বাণী সফল করিবার জন্যই আমি মর্ত্ত্যে আগমন করিয়া থাকি।
ভগবানে এই অপার করুণা আমি নত মস্থকে শ্মরণ করি।হরে কৃষ্ণ।।

Tuesday, December 8, 2020

সত্যকাম জাবালা ব্রাহ্মণ হলো কি করে?

সত্যকাম জাবালা, 
সে যুগে যুবকেরা ব্রহ্মচর্য নিয়ে বেদাধ্যায়ন করতো। সত্যকাম জাবাল একদিন মাকে বললো সেও গুরুকুলে যাবে এবং মাকে তার পরিচয় দেওয়ার জন্য গোত্র কি জানতেে চাইলো। আগে নামের শেষে গোত্র লিখে পরিচয় দেওয়ার রীতি ছিল। সত্যকাম যেহেতু পিতৃ পরিচয় জানতো না তাই মাকে গোত্রের কথা জিজ্ঞাসা করে।
মাতা জাবালা বললেন, "পুত্র তোমার গোত্র আমি জানি না। আমি বহু লোকের পরিচর্যা করে এবং বহু লোকের সঙ্গে বাস করে তোমাকে পেয়েছি। এজন্য তুমি কার দ্বারা জাত হয়েছ তা আমি সঠিক ভাবে জানি না, সেজন্য তোমার গোত্র কি বলতে পারব না। তোমার পরিচয় জানতে চাইলে তুমি বলবে আমি 'সত্যকাম জাবালা'।" সে গৌতম মুনির কাছে গিয়ে বললো,"আমি আপনার কাছে ব্রহ্মচর্যবাস করবো, এজন্য এসেছি।" প্রথা অনুযায়ী গৌতম তার গোত্র জিজ্ঞেস করলেন। সত্যকাম ও মায়ের কথামত জানালেন তিনি নিজের গোত্র জানেন না, তবে তার নাম সত্যকাম জাবাল। এই বলে মা যা বলেছিলেন সবই অকপটে বললেন।
গৌতম মুনি বললেন কোন অব্রাহ্মণ এরকম বাস্তব সত্য বলতে পারে না। এজন্য তেজের দরকার। ব্রাহ্মণ বলেই সত্যকাম এরূপ সত্য বলেছে। তাই গুরু গৌতম সত্যকামকে ব্রহ্মচর্য দিতে সম্মত হয়ে তাকে যজ্ঞের কাঠ আনতে বললেন এবং জানালেন যে তিনি সত্যকামের উপনয়ন দিবেন কেননা সে সত্য হতে বিচ্যুত হয়নি এবং তৎকালে বেদাধ্যয়নের আগে উপনয়নের প্রথা ছিল। উপনয়নের পর সত্যকাম ব্রহ্মচর্য শিক্ষা করতে লাগলেন।

সনাতন ধর্মে ঈশ্বরের সাকার রূপ অস্বীকারের উপায় নেইঃ

সনাতন ধর্মে ঈশ্বরের সাকার রূপ অস্বীকারের উপায় নেইঃ
সনাতন ধর্মের কিছু কিছু লোক বেদ ও গীতা মানেন; কিন্তু  ঈশ্বরের সাকার রূপ বিশ্বাস করতে চান না ।তা স্ববিরোধী হয়ে গেল না? গীতা হলো ভগবানের বাণী ।ভগবানের বাণী অস্বীকার করা কি সনাতনী দাবি করে সাজে? মোটেই না ।পবিত্র গীতায় ভগবান নিজে বলেছেন, " যখনই ধর্মের পতন ও অধর্মের উত্থান হয়,তখনই আমি নিজেকে সৃষ্টি করি অর্থাৎ দেহ ধারণ করে অবতীর্ণ হই( ৪|৭)।" আবার বলা হয়েছে, " সাধুগণের রক্ষার জন্য, দুষ্টগণের বিনাশের জন্য এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই (৪|৮)।" এই শ্লোকগুলো ভগবানের নিজের শ্রীমুখের বাণী ।তাৎপর্য হলো, ভগবানের অবতারের উদ্দেশ্য হলো তিনটি; ১. সাধুগণের রক্ষা ২. দুষ্টগণের বিনাশ ৩.ধর্ম সংস্থাপন ।এই তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে ভগবান মায়া প্রভাবে সৃষ্টি করেন।যে দেহ তিনি গ্রহণ করেন তা কর্মফল জনিত ভোগ দেহ নয়,তা মায়িক দেহ,দিব্য দেহ বা লীলা দেহ।তিনি জন্ম রহিত, তবু কি করে জন্ম হয় এ প্রশ্ন উঠে না,কারণ 'মায়া অঘটনঘটনপটিয়সী' ।
অবতার আসলে মায়া মনুষ্য ।ঈশ্বরের দেহধারণ এবং দেহত্যাগ তা সাধারণ মানুষের মতো নয়।কাজেই, ঈশ্বরের সাকার রূপ অস্বীকার করার অবকাশ নেই ।বেদ ও গীতা সম্পর্কে কেউ প্রশ্ন তুলে না বলে আমার বিশ্বাস ।গীতা ভগবানের বাণী হওয়া সত্ত্বেও প্রশ্ন তুললে মানুষ বেদ নিয়েও প্রশ্ন তুলবে? যারা শুধু শুধু বেদ বেদ বলে চিৎকার করেন,অন্য ধর্মগ্রন্থ মানেন না  তাদেরকে প্রশ্ন করি বেদ কার বাণী? হয়তো বলবেন বেদ ঈশ্বরের বাণী সবাই জানে, আপনি পণ্ডিত হয়ে জানেন না বুঝেন না।আপনারা বলেন ভগবানের বাণী হওয়া সত্ত্বেও ভগবান কত জায়গায় বা  মন্ত্রে নিজে বলেছেন ? অর্থাৎ কত জায়গায় ভগবানের সরাসরি বাণী আছে ? আমার জানামতে, বেশির ভাগ মন্ত্রে মুনিঋষিগণের প্রার্থনা আছে, ভগবান নিজে বলেননি ।তাহলে গীতায় ভগবানের সরাসরি বাণী মানেন না,পরোক্ষভাবে ভগবানের নির্দেশ মানবেন কীভাবে?বেদ যে ভগবানের বাণী তা ব্যাখ্যা দিতে কেউ না পারলে আমি ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করবো ।আমি বেদ ও গীতা কেন, স্মৃতি ও পুরাণ বিশ্বাস করি।তবে স্মৃতি ও পুরাণের কিছু কিছু শ্লোক বিষয়ে আমার নিজের ও খটকা লাগে ।গীতা, স্মৃতি ও পুরাণ যারা মানেন তাদের কাছে আমার  প্রশ্ন নয়,যারা এগুলো মানেন না  এবং শুধু নিরাকারবাদী তাদের কাছে আমার প্রশ্ন ।কেউ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে আমাকে অশালীন ভাষায় আঘাত করবেন না,আমি নিজের উত্তর নিজেই খুঁজে নেব।তবে অনেক প্রশ্ন করে দেখেছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্টরা নীরব থাকেন।কেন থাকেন  তা আমার জানা নেই ।আশা করি, পুরো বেদ যে ভগবানের বাণী সে বিষয়ে যথার্থ ব্যাখ্যা পাব।
পরিশেষে বলি, পবিত্র ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ বিষয়ে সনাতনী হিসেবে অস্বীকার করার উপায় নেই ।মনের পূর্ণ সন্তুষ্টির জন্য ফেইসবুক বন্ধুদের কাছে শেয়ার করা।ভুল ভ্রান্তির জন্য পরমেশ্বরের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থী ।

Ekadoshi

তর্পণ বিধি

 আমি প্রথমেই মহালয়া বিষয়ে দু'একটা কথা বলে নিই, তারপর  তর্পণ নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।  মহালয়া মানে শুধু মায়ের আগমন নয়, মহাল...

চারবর্ণের অশৌচ ব্যবস্তা